HomeBengaliঅর্গাননের দ্বিতীয় সূত্র by স্যামুয়েল হ্যানিম্যান

অর্গাননের দ্বিতীয় সূত্র by স্যামুয়েল হ্যানিম্যান

অর্গাননের দ্বিতীয় সূত্র by হ্যানিম্যান- অর্গানন অফ মেডিসিন



আরোগ্য বিধান এর উচ্চতম আদর্শ হল দ্রুত, বিনা কষ্টে ও স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার কিংবা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে, সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য ও নির্দোষ  উপায়ে সহজবোধ্য নীতির সাহয্যে সমগ্রভাবে রোগের দূরীকরণ ও বিনাশ।




অর্গাননের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যাখ্যা:

দ্বিতীয় সূত্রের হ্যানিম্যান চিকিৎসার উচ্চতম আদর্শের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রায় 2 হাজার বৎসর পূর্বে Asclepiades নামের একজন গ্রিক চিকিৎসকও উক্ত মর্মে চিকিৎসার আদর্শ সম্বন্ধে ঘোষণা করেছিলেন।  তার আদর্শের সারমর্ম ছিল অতিদ্রুত, নির্বিঘ্নে, ও সুখকর উপায় রোগের আরোগ্য বিধান করতে হবে। কিন্তু সেই আদর্শ তার কল্পনাতেই আবদ্ধ ছিল,  সুদীর্ঘকাল পরে তাকে বাস্তবে রূপায়িত করলেন হ্যানিম্যান।

দ্বিতীয় সূত্রের আদর্শ আরোগ্য প্রসঙ্গ হ্যানিম্যান কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছেন। তার প্রথমটি হলো আরোগ্য বিধানের গতি দ্রুত হওয়া চাই । অবশ্য সকল চিকিৎসা পদ্ধতিতেই দ্রুত আরোগ্য বিধানের কথা স্বীকৃত হয়েছে।

দ্বিতীয় শর্ত হলো আরোগ্য বিধান কার্য যতদূর সম্ভব বিনা কষ্টে ও নির্দোষ ভাবে সাধন করতে হবে। আগুনে ঘৃতাহুতি দেবার মত যদি রোগ যন্ত্রণার উপর আরো যন্ত্রণা চাপানো হয় তাহলে রোগীর অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়ে। হ্যানিম্যানের সময়ে চিকিৎসার ব্যাপারে নানা রূপ আসুরিক পদ্ধতি ও প্রকরণের ব্যবস্থা ছিল এমনকি পচন নিবারনের জন্য আহত অঙ্গকে ফুটন্ত তেলে কিংবা আলকাতরার মধ্যে ডুবানো হত। সেটা যে কি ভীষণ যন্ত্রণা তা সহজেই অনুমেয়। সেখানে যদি কষ্ট বিহীন কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে পারলেই রোগীর পক্ষে কত না সুখের হয় । হ্যানিম্যান সেইজন্য আদর্শ চিকিৎসার একটি অঙ্গরূপে কষ্ট বিহীন চিকিৎসার কথা উল্লেখ করেছেন।

চিকিৎসার আদর্শ সম্বন্ধে তৃতীয় প্রয়োজন হল স্থায়ীভাবে আরোগ্য বিধান। পীড়াহেতু দেহ ও মনে যে অসুখ ও অশান্তি আসে সেটা বিদূরিত করে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের ফিরাইয়া আনাই হল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে।

কিন্তু সে উদ্দেশ্য সাধিত না হয়ে যদি শুধু সামরিক উপশম আসে কিংবা সাময়িক উপশমের পর আবার অন্য কোনো উপসর্গ এসে উপস্থিত হয় –  তাহলে সেই চিকিৎসাকে কখনোই আদর্শ চিকিৎসা বলা চলে না এবং সেটা চিকিৎসকের কখনো কাম্য হতে পারে না।

চিকিৎসার অন্যতম আদর্শ হলো সমগ্রভাবে রোগের দূরীকরণ। রোগের যখন উৎপত্তি হয় তখন দেহে ও মনে নানা রকম লক্ষণ প্রকাশিত হয়। সেগুলির কয়েকটি উৎকট যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে আবার কতগুলি হয়তো অপেক্ষাকৃত কম যন্ত্রণাদায়ক। যদি এরূপভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় যাতে লক্ষণ গুলির মাত্র আংশিক উপশম হয় তাহলে সেই চিকিৎসাকেও আদর্শ বলে গণ্য করা যায় না। সমগ্রভাবে সমস্ত লক্ষণ গুলি বিদূরিত হলে তবেই তাকে বলে আদর্শ চিকিৎসা।

আরোগ্য বিধান নির্দোষ ভাবে হওয়া চাই। হ্যানিম্যানের সময়ে শিরা কেটে রক্ত বের করে দিয়ে, কোন স্থান পুড়িয়ে ক্ষত করে কিংবা অন্য কোন উৎকট পদ্ধতি অবলম্বন করে যেসব চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল সেগুলো কখনোই নির্দেশ বলা চলে না। তাতে অতিরিক্ত রক্ত ও রসের ক্ষরণ হেতু রোগী স্বভাবতই অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়তো। এবং তার ফলে রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রোগীর অন্য কোন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হবার প্রবণতা বৃদ্ধি পেত। সুতরাং এই প্রকার ত্রুটি ও দূষণমুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতিকে আদর্শ চিকিৎসা বলিয়া ধরা যায় না।

সবশেষে হ্যানিম্যান বলেছেন – আদর্শ আরোগ্যের মূলে থাকে চাই এক সহজবোধ্য নীতি যার সাহায্যে অভ্রান্ত ভাবে চিকিৎসা পরিচালনা করা সম্ভব। কল্পনা বা অনুমানের উপর নির্ভর করে কিংবা ধারনার অতীত কোন ক্রিয়া কে আশ্রয় করে অনেক সময় হয়তো রোগের উপশম বা আরোগ্যলাভ হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত কোন সুদৃঢ় নীতির উপর সেই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠিত নয়। বিশেষ কোন ক্ষেত্রে উপকার দেখা গেলেও সবক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। গণনার সাহায্যে বৈজ্ঞানিকগণ যেসকল নৈসর্গিক  ঘটনাবলী অভ্রান্তভাবে ঘোষণা করেন তার ভিতরে পাওয়া যায় এক অপরিবর্তনীয় চিরন্তন নীতি। সেই নীতি সর্বকালে সত্য ও অমোঘ এবং অনুকরণীয়। কিন্তু যে পদ্ধতির ভিতর কোন প্রয়োগ নীতি খুঁজে পাওয়া যায় না সেটা দুর্বোধ্য এবং তা কখনও চিকিৎসার আদর্শ নীতি গৃহীত হতে পারে না।

অর্গাননের প্রথম সূত্র – হ্যানিম্যান -অর্গানন অফ মেডিসিন
 
RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments