HomeBengaliঅর্গাননের তৃতীয় সূত্র by স্যামুয়েল হ্যানিম্যান

অর্গাননের তৃতীয় সূত্র by স্যামুয়েল হ্যানিম্যান

অর্গাননের তৃতীয় সূত্র



যদি চিকিৎসকের স্পষ্ট বোধ থাকে পীড়ায় অর্থাৎ প্রত্যেক রোগের ক্ষেত্রে কি সারাতে হবে অর্থাৎ ব্যাধি সম্বন্ধে জ্ঞান, যদি তিনি জানেন ভেষজ সমূহে অর্থাৎ প্রত্যেকটি ভেষজের ভেতরে কি আরোগ্য শক্তি নিহিত আছে অর্থাৎ ভেষজ শক্তি সম্বন্ধে জ্ঞান,  যদি তিনি জ্ঞাত থাকেন –  রোগীর ভেতরে যা পীরা বলে নিঃসন্দেহে জানা গেছে তার উপর কেমন করে স্পষ্ট ধারণা যুক্ত নীতি অনুসারে ভেষজের আরোগ্য শক্তিকে প্রয়োগ করতে হয়। যার ফলে আরোগ্য করতে শুরু হবে এবং ভেষজটির ক্রিয়া প্রণালী অনুসারে রোগীর উপর প্রয়োগের যোগ্যতা সম্বন্ধে তা সুনির্বাচিত কিনা অর্থাৎ ঔষধ নির্বাচন এবং তাছাড়া ইহা প্রস্তুত করার সঠিক পদ্ধতি কি পরিমাণে প্রয়োজন অর্থাৎ মাত্রা এবং উপযুক্ত সময় এবং পরিশেষে প্রত্যেকটা রোগীর ক্ষেত্রে কি বাধা ও তা কি উপায়ে দূরীভূত করা যায় যাতে আরোগ্য বিধান স্থায়ী হতে পারে । চিকিৎসকের এইসকল যদি জানা থাকে তাহলে অভিজ্ঞতা ও বিচারবুদ্ধি সম্মতভাবে কি প্রকারের চিকিৎসা করা যায় তখন তার বোধগম্য হবে এবং তিনি তখন আরোগ্য নৈপুণ্যে প্রকৃত চিকিৎসক।



অর্গাননের তৃতীয় সূত্রের ব্যাখ্যা:
রোগবিজ্ঞান প্রকৃত চিকিৎসক হতে গেলে যে জ্ঞানের প্রয়োজন তা এই সূত্রে হ্যানিম্যান উল্লেখ করেছেন। অর্গানন শিক্ষার  মর্মকথা এই সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে। হ্যানিম্যান এর মতে চিকিৎসকের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান প্রয়োজন হল আরোগ্য বিজ্ঞানী হওয়া। যে সকল জ্ঞানের সহায়তায় হ্যানিম্যানের সময়ে চিকিৎসকগণ চিকিৎসা কার্যে ব্রতী হতেন তার  ত্রুটি ও বিফলতা হ্যানিম্যান বুঝেছিলেন। তিনি এই কথাই স্পষ্ট ভাবে নানা প্রবন্ধের বিতর দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন যে রোগবিজ্ঞান ভেষজ বিজ্ঞান এবং তার প্রয়োগ  বিজ্ঞানই হল আরোগ্য নীতির মূলকথা।

তাহলে এখন প্রশ্ন আসে রোগবিজ্ঞান বলতে আমরা কি বুঝি? বিভিন্ন জাতীয় লক্ষণ সম্বলিত এক একটি রোগের নাম ধরে যে গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে এবং তা অবলম্বন করে যে চিকিৎসা পদ্ধতি গড়ে উঠেছে তাকেই কি রোগ বিজ্ঞান বলে বুঝতে হবে?

এই প্রকার চিত্রে প্রত্যেকটি রোগের কেবল একই প্যাটার্ন, একই চাঁচ আমাদের মনশ্চক্ষে প্রতিফলিত হয় এবং সেই বাঁধাধরা ছকে ফেলে প্রত্যেকটি রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়। এখানে রোগ হলো মুখ্য, রোগী হলো গৌণ।

সাধারণভাবে একটি নির্ধারিত ছকে ফেলে কোন রোগের একই প্রকার চিকিৎসার ব্যবস্থা প্রবর্তন চিকিৎসকের পক্ষে সহজ হতে পারে কিন্তু তাতে শিল্পীসুলভ চিকিৎসাকলানৈপুণ্যের কোন স্থান নেই।

প্রত্যেক মানুষের যেমন আকৃতিগত বিভিন্নতা আছে, কেমনি আছে তার ধাতু ও প্রকৃতিগত পার্থক্য। সুতরাং সংকলিত গ্রন্থ রোগের যে বর্ণনা থাকে তাতে সমগ্রভাবে রোগ চিত্র পাওয়া গেলেও রোগীর প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তার ঠিক মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

রোগীকে আশ্রয় করেই রোগের প্রকাশ, নতুবা রোগীর নিজস্ব কোন পৃথক সত্তা বাস্তব জগতে কল্পনা করা যায় না। প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিসত্তায় যেমন পার্থক্য রয়েছে তেমনই একই নামধেয় রোগের বিভিন্ন প্রকাশে যে বৈচিত্র থাকবে তাতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না। এই বৈচিত্রের প্রতি অপেক্ষা বা অবহেলাই হলো চিকিৎসায় কার বিফলতার  মলীভূত কারণ। হ্যানিম্যান তাই এখানে বলেছেন।

সুতরাং চিকিৎসায় সফলতা লাভ করতে হলে রোগের বহিরঙ্গ চিত্র সম্বন্ধে যেমন জ্ঞান থাকা চাই তেমনি রোগীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলিও প্রত্যক্ষ করা প্রয়োজন। সেজন্য হ্যানিম্যান তৃতীয় সূত্রে প্রত্যেক রোগীর ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে  আরোগ্যের বিষয় কি তা চিকিৎসককে স্পষ্টভাবে হৃদয়াঙ্গম করতে নির্দেশ দিয়েছে।

সকল রোগীকে এক ছকে না ফেলে প্রত্যেকটি রোগের সম্বন্ধে পৃথকভাবে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করাই হল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার বৈশিষ্ট্য। তাই হল আরোগ্য বিজ্ঞান। এযাবৎকাল রোগ সম্বন্ধে শুধু না না গবেষণা ও তাত্ত্বিক আলোচনা হয়েছে কিন্তু তা রোগীর ব্যক্তিত্বকে উপেক্ষা করে। হ্যানিম্যানই সর্বপ্রথম আমাদের দৃষ্টি রোগীর দিকে  ফিরিয়েছেন।

রোগীর বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ সম্বন্ধে নির্দেশ দিতে গিয়ে হ্যানিম্যান perceive কথাটি ব্যবহার করেছেন। Perceive কথাটির ভিতরে শুধু জানা ছাড়া আরো কিছু গভীর ব্যঞ্জনা আছে। জনার ভিতরে আছে শুধু বুদ্ধি ও যুক্তির ক্রিয়া,  কিন্তু perceive কথার ভিতরে প্রত্যক্ষ বোধের ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য অনুভব এর অর্থ প্রকাশ পায়।

অর্গাননের দ্বিতীয় সূত্র by হ্যানিম্যান

অর্গাননের প্রথম সূত্র by হ্যানিম্যান

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments